পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে বাণিজ্যিক আবাসন তৈরির পরিকল্পনা করছে NASA

407

পৃথিবীপৃষ্ঠের কাছাকাছি বায়ুমন্ডলে বাণিজ্যিক আবাসন নির্মাণের প্রস্তাব NASA-কে দিয়েছে বেসরকারী বিভিন্ন মহাশূণ্যযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। বায়ুমন্ডলের এ অংশে আছে International Space Station, এবং এ অংশেই আবাসনগুলো তৈরি করা হবে মহাকাশচারীদের জন্য।ক্রমান্বয়ে এসব আবাসন গবেষণা ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনেও ব্যবহার করা হবে। তবে এমন কল্পরাজ্য তৈরি করা বেশ কঠিন হবে যদি না মহাশূণ্য যাত্রা সংক্রান্ত খরচ কমে না আসে, এমনটিই জানিয়েছে NASA।

পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে বাণিজ্যিক আবাসন তৈরির পরিকল্পনা করছে NASA

গত ২৮শে মে NASA ১২টি প্রতিষ্ঠান থেকে আসা এমন প্রস্তাবনা প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে Blue Origin, Lockheed Martin, Boeing ইত্যাদি। প্রস্তাবনার মূল কথা ছিল, কিভাবে পৃথিবীর নিকট বায়ুমন্ডলে বাণিজ্যিক কর্মকান্ড চালু করা যায়। NASA বেসরকারী এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বুদ্ধি চেয়েছে যাতে International Space Agencyথেকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশতি আলাদা করে ফেলা যায়। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির বাজেট আবেদনে জানানো হয়েছিলো, ২০২৪ সালের মধ্যে International Space Station-এ সরাসরি অর্থায়ন বন্ধ করা হবে। NASA তখনই জানিয়েছিলো তার কার্যক্রম পৃথিবীর নিকট বায়ুমন্ডলে স্থানান্তর করা হবে।


সব কথার সারকথা, NASA এখনো চায় বায়ুমন্ডলে কেন্দ্র স্থাপন করতে, যাতে ভবিষ্যতের গবেষণাকাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহাশূণ্যে কেন্দ্র স্থাপন করা হলে তাতে প্রবেশের জন্য তাদেরকেও টাকা দিতে হবে।

কিভাবে মহাশূণ্যে এমন কল্পরাজ্য স্থাপনে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ চালাতে পারে, তার একটা চিত্র অংকন করা হয়েছে। Blue Origin এবং NanoRacks চিন্তা করছে মহাশূণ্যে উড্ডয়ন করা রকেটের খোলস দিয়ে নিজস্ব কেন্দ্র স্থাপন করা যায় কিনা।Axiom ভাবছে ব্যবসায়িক কিছু মডিউল ছাড়া হবে যায International Space Station-এর সাথে প্রথম কয়েক বছর জোড়া লেগে থাকবে। পরে ধীরে ধীরে আলাদা কেন্দ্রে রূপ পাবে।

বিভিন্ন ব্যবসায় মডেলের প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে এসব আবাসন ফিলমেকিং, স্পন্সরশিপ, খেলাধুলা্‌ পর্যটন ইত্যাদির কাজে ব্যবহৃত হবে। তবে NASA ইঙ্গিত দিয়েছে মানুষ এবং জিনিসপত্র স্থানান্তরের খরচ বেশ, তাই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো কদ্দূর পারবে সেটাই প্রশ্ন। এ সমস্যা সমাধানে একটি পন্থা বাতলে দিয়েছেNASA, তবে বিস্তারিত এ ব্যাপারে জানিয়েছে।


তবে এখন পর্যন্ত গবেষণাগুলো কেবল তাত্ত্বিক পর্যায়েই রয়ে গিয়েছে। NASA-ও এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাবনা নিয়ে কাজ এগোচ্ছে না। International Space Station এবং LEO নিয়ে NASA-এর পরিকল্পনা এখনো অস্পষ্ট। সিনেটর টেড ক্রুজ চেষ্টা করছেন International Space Station-এর উপরNASA-এর কর্তৃত্ব ২০৩০ সাল নাগাদ ধরে রাখার আইন পাশ করতে। কাজেই কবে সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে, এখনো কিছু জানা যাচ্ছে না। তবে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো চিন্তা করছে কিভাবে আকাশে পাখা মেলা যায়।

পোস্টটি ভালো লাগলে Like দিন, পোস্টটি সম্পর্কে কোন কিছু জানার থাকলে অবশই কমেন্ট করবেন এবং প্রতিদিন প্রযুক্তির সব letest নিউজের Update পেতে (প্রযুক্তির আলো.কম) এর সাথে থাকুন ।   

আরও পড়ুনঃ Ferrari বাজারে নিয়ে এসেছে পৃথিবীর সর্বাধিক গতির বৈদ্যুতিক সুপারকার Hybrid Plug-in SF90 Stradale