বাজারে আসলো Panasonic-এর Lumix S1 ও S1R Full Frame Mirrorless Camera

Panasonic গত বছর Lumix S1 এবং S1R full-frame mirrorless camera বাজারে আনবার ঘোষণা দিয়েছিলো। তবে এবার কোম্পানিটি এই দুটি পণ্যের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছে। Panasonic-এর অন্যান্য ভিডিও ক্যামেরার কার্যক্ষমতার মতো এই দুটি ক্যামেরাও ছবি তোলার ব্যাপারে খুব জনপ্রিয়তা পাবে, কোম্পানিটি এমনটাই প্রত্যাশা করছে। ক্যামেরার ফর্মুলাটা সম্ভবত আগেও Sony এবং সম্প্রতি Canon-এর ক্যামেরার মতোই। S1R-এ থাকছে 47.3 MP, অর্থাৎ high-megapixel resolution সম্পন্ন, যার প্রধান লক্ষ্য পেশাদার ফটোগ্রাফারগণ। এর বডি দাম পড়ছে ৩৬৯৯ মার্কিন ডলার, সাথে ২৪-১০৫ মিলি লেন্স নিলে পড়বে ৪৫৯৯ মার্কিন ডলার। এদিকে S1-এ থাকছে 24.2 MP , এবং হাইব্রিড ফটোগ্রাফারদের জন্য বিশেষ কার্যক্ষমতা। সুদু বডির এর দাম পড়বে ২৪৯৯ মার্কিন ডলার (ট্যাক্স ছাড়া ২ লাখ ১০ হাজার টাকা), আর ২৪-১০৫ মিলি লেন্স সাথে নিলে পড়বে ৩৩৯৯ মার্কিন ডলার (ট্যাক্স ছাড়া ২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা)

উভয় ক্যামেরাতে থাকছে Leica-এর L-Mount। Panasonic এবং Sigma এর লাইসেন্স প্রদান করছে এবং তিনে মিলে L-Mount Alliance গঠন করেছে।




Panasonic ৩টি লেন্স ছাড়ছেঃ

  • 50 mm f/1.4 S Pro, যার দাম পড়বে ২২৯৯ মার্কিন ডলার। Panasonic-এর তথ্যমতে লেন্সটি সর্বাধিক ভালো optical performance দিতে সক্ষম। Sharpness, bokeh, contrast ইত্যাদির দিক থেকে এটা সবচেয়ে উন্নত।
  • 70-200 mm f/4 S Pro, যার দাম পড়বে ১৬৯৯ মার্কিন ডলার।
  • 24-105 mm f/4 Macro, যার দাম পড়বে ১২৯৯ মার্কিন ডলার। এটা হবে S1 এবং S1R-এর কিট লেন্স। যদিও এটা S Pro series-এর অংশ নয়, তবে কেবল এক ফুট দূরত্ব থেকে কোনো ফোকাস সুইচ ছাড়াই ম্যাক্রো শট নেবার ব্যাতিক্রমী বৈশিষ্ট্য থাকছে এতে।

২০১৯-এর শেষের দিকে Panasonic আরো ৩টি লেন্স বাজারে আনবার পরিকল্পনা করছে। সাথে Leica এবং Sigma-এর মধ্যে লেন্স নির্বাচন করার সুবিধা থাকছে। যদিও Panasonic-এর নিজস্ব লেন্সগুলোতে Leica branding এখন আর চলছে না, তবে মান বোঝানোর জন্য S Pro লেন্সগুলো Leica কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত হচ্ছে। ক্যামেরাগুলোর ওজন অনেক বেশি। S1 এবং S1R উভয়েরই বডি, ব্যাটারি ও XQD card-সহ ওজন হচ্ছে ২.২৫ পাউন্ড।  SD card ব্যবহার করলে ওজন হবে ২.২৪ পাউন্ড। তুলনা করলে ক্যামেরাগুলো Nikon D850 professional DSLR থেকে অধিক ভারী । Panasonic বলছে এই ভরের পেছনে in-body stabilization কাজ করছে কিছুটা। কোম্পানিটির দাবী, ক্যামেরাগুলো high-performance এবং longevity-এর কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। তবে যাহোক, S series ক্যামেরাগুলো যে Nikon Z এবং Canon EOS R থেকে ভারী, এটা এমনিতেই বোঝা যায়।



Panasonic-এর দাবী, নতুন S series ক্যামেরাগুলো প্রস্তুতে সমস্ত খুঁটিনাটি হিসাব করা হয়েছে। এমনকি placement এবং customizability নিয়ন্ত্রণের জন্য যে grip, তার মালমশলাও হিসাব থেকে বাদ যায়নি। উভয় ক্যামেরাতেই থাকছে 5.76 million-dot OLED electronic viewfinder, যা 60 fps ও 120 fps-এ refresh rate-এ পরিবর্তনে সহায়ক হচ্ছে। Back joystick-টি 8-way press-এর উপযোগী করে তোলা হয়েছে। ক্যামেরাগুলোর উপরাংশে থাকে status LCD, যা Panasonic G9 থেকে এনেছে। Rear button-গুলোর সাথে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাথে রয়েছে দুটি card storage slot; UHS-II SD এবং XQD উভয় slot-ই আছে। Panasonic ক্যামেরার lock function-এর জন্য আলাদা একটি সুইচই রেখেছে ক্যামেরার পেছনদিকের উপরাংশের বামদিকে। এতে বেশ তাড়াতাড়িই touchscreen, d-pad, joystic, dial ইত্যাদি lock করে ফেলা যাবে কোনো settings change ছাড়াই।

S1R এর প্রধান লক্ষ্য ফটোগ্রাফারদের দিকে। এটা তাদের জন্য উপযোগী, যারা landscape সহ প্রত্যেক খুঁটিনাটি ভালো থাকতে হবে এমন শট তুলতে চান। Panasonic-এর দামী S Series ক্যামেরাগুলোতে ISO range থাকছে ১০০ থেকে ২৫৬০০। যদি 47.3 MP resolution থেকেও বেশি কিছু দরকার পড়ে, তবে ক্যামেরার high-resolution mode চালু করে 187 MO RAW file নেয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। এর resolution হবে 16,736 x 11,168 pixels। G9-এ Panasonic এ কাজটা করতো sensor-কে আধা পিক্সেল দিয়ে ৮ গুণ পরিবর্তন করে 4x resolution বাড়িয়ে। S1R ক্যামেরা 60p-তে4K ভিডিও করতে সক্ষম। তবে এ ভিডিও crop-এ ধারণকৃত হয় এবং pixel binning-এর মাধ্যমে ঐ সকল পিক্সেল থেকে processor-এর উপর চাপ কমিয়ে আনে।





S1 মূলতঃ ভিডিওগ্রাফারদের জন্যই। এটা full-sensor readout এবং কোনো cropছাড়াই 4K ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম। 30p অথবা 24p-তে4K ভিডিও ধারণ করার কোনো সময়ও নির্দিষ্ট করা নেই। 60 fps-এ 4K ভিডিও ধারণ S1 এবং S1R উভয়টাতেই সময় নির্দিষ্ট। S1-এ সময়সীমা ৩০ মিনিট আর S1R-এ ১৫ মিনিট।Native ISO range পড়ছে ১০০ থেকে ৫১২০০। S1-এর high-res mode 96MP shot নিতে সক্ষম। তবে এরকম উচ্চমানের ভিডিও ধারণ ক্ষমতার জন্য Panasonic ক্যামেরার দামও সেরকম রাখছে।S1 ধীরে ধীরে 4:2:2 10-bit 4K/30p internal recording এবং 4:2:2 10-bit 4K/60p external recording ফিচার আনবে, তবে বাজারে আসার প্রথমেই নয়। এসব পাবার জন্য তখন ক্যামেরার দামের সাথে আরো কিছু টাকা গুণতে হবে ব্যবহারকারীদের। V-Log, যা এখন থাকছে না S1-এর সাথে, তার জন্যেও একই কথা।

তবে উভয় ক্যামেরাতেই যা যা থাকছে:

In-body stabilization, যা IS লেন্সে 6 stops of shake reduction-এর জন্য কার্যকরী।Stabilization-বিহীন ক্যামেরার জন্য এটা 5.5 stop।কম আলোতে-6EV শট গ্রহণ করতে সক্ষম ক্যামেরাগুলো, আর কম আলো ও কমcontrast-এ -3EV শট (যদি Panasonic-এর লেন্সের মতো f/1.4 লেন্স ব্যবহার করা হয়)।

কেউ কেউ হয়তো phase-detect AF-এর অভাব অনুভব করতে পারেন। তবে Panasonic-এর দাবী, DFD technology-এর সাথে contrast AF থাকায় ক্যামেরাগুলো on-sensor phase detect system-কেও ছাড়িয়ে যাবে। Horizontal banding-এর মতো সমস্যারও(যাshadow বাড়ালে দেখা যায়) মোকাবেলা করতে ক্যামেরাগুলো সক্ষম। আর যেসকল স্থানে ক্যামেরাগুলো এমনটি করতে পারবে না, Panasonic-এর দাবী অনুযায়ী deep learning AI-এর মাধ্যমে নিজে নিজেই সেগুলো শিখে নিবে কি করা উচিত।Panasonic-এর ক্যামেরাতে .08 second lock-on for single AF ব্যবস্থা আছে।S1 এবং S1R উভয়েই subject tracking-এর জন্য মানুষ এবং জীবজন্তুর দেহ সনাক্ত করতে পারে (যেমন পাখি, বিড়াল, কুকুর ইত্যাদি)। AI-assisted autofocus system মানুষের চোখও তাক করতে পারে। তবে পশুপাখির চোখের দিকে এখনো নজর দিতে পারছে না।



অন্যান্য আরও কিছু মিল আছে ক্যামেরাগুলোর মধ্যে, যেমন:

  • Burst: continuous autofocus-এ 6FPS, single-focus-এ 9FPS।
  • ৩.২ ইঞ্চিtilting touchscreen (2.1 million dots)।
  • Shutter rate করা আছে 400K actuation-এর জন্য।
  • USB-C 3.1 Gen 1 PD থাকছে(ক্যামেরা চালানো অবস্থাতেইexternal PD battery pack-এর সাথে সংযুক্ত করা যাবে)

পোস্টটি ভালো লাগলে Like দিন, ক্যামেরাটি সম্পর্কে কোন কিছু জানার থাকলে অবশই কমেন্ট করবেন এবং প্রতিদিন প্রযুক্তির সব letest নিউজের Update পেতে প্রযুক্তির আলো.কম এর সাথে থাকুন ।