স্বয়ংক্রিয় যানবাহন দিয়ে বিপদগ্রস্ত পাইলট উদ্ধার করবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী

303

যখনই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিমান ভূপাতিত হয়, তখনই উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পাইলটকে উদ্ধার করেন। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয় না, দুর্ঘটনা বা শত্রুর হাতে পড়বার ঝুঁকি থাকে। এমনটা এড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী নতুন ব্যবস্থা প্রণয়নের চিন্তা করতছে। Air Force Research Laboratory-এর তেমন এক আবেদন সামনে এনেছে Aviation Week (Task & Purpose-এর মাধ্যমে)। তাতে জানানো হয়েছে, স্বয়ংক্রিয় বিমানের মাধ্যমে ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হতে পারে।

স্বয়ংক্রিয় যানবাহন দিয়ে বিপদগ্রস্ত পাইলট উদ্ধার করবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী

২রা মে-তে করা আবেদনে যানটির নাম দেয়া হয়েছে Personnel Recovery / Transport Vehicle। আবেদনে বিস্তারিত আলাপ করা হয়েছে যে কেমন যান চাচ্ছে Air Force Research Laboratory। যানটি হতে হবে ছোটো, স্বয়ংক্রিয়, ছুটতে পারবে কমপক্ষে ১০০ মাইল এবং মাটি থেকে উড়বার সময় খুব অল্প চিহ্ন রেখে যাবে। কমপক্ষে দুজন বহন করতে পারবে যানটি, একজনকে নিতে হবে medical litter-এ। সব মিলিয়ে ১৪০০ পাউন্ডের জিনিসপত্রসহ চারজন মানুষকে বহন করতে পারবে। বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক এলাকায় কাজ করতে সক্ষম হতে হবে। Water recovery ক্ষমতা থাকলে ভালো হয়, তবে থাকাটা বাধ্যতামূলক না। সব শেষে, যানটি উড্ডয়ন কিংবা অবতরণের সময় যাতে অল্প ‘acoustic audible signature’ রেখে যায়, দরকার হলে যাতে বিমান থেকেও প্রেরণ করা যায় যানটিকে। এরকম এক যান চাচ্ছে Air Force Research Laboratory। অবশ্য যানটি কোনো হেলিকপ্টার হবে, tilt-rotor যান হবে, নাকি অন্য কিছু হবে, সে ব্যাপারে কিছু নির্দিষ্ট করা হয়নি।

যান তৈরির উদ্দেশ্য অল্প খরচে স্বয়ংক্রিয় কিছু তৈরি, যা মিলিটারি বাহিনী এমন যান পর্যাপ্ত মাত্রায় কাছে রাখতে সক্ষম হবে। বিপদের সময়ে উদ্ধারকাজের সময় কমানোও উদ্দেশ্য। আবেদনটি থেকে যা বোঝা যায়, যানটি বিভিন্ন কাজ যেমন অনুসন্ধান, উদ্ধার, বিশেষ অপারেশন ইত্যাদির জন্য ব্যবহৃত হবে। অর্থাৎ, যানটি ভূপাতিত পাইলটদের উদ্ধার করতে পারবে, বিশেষ বাহিনীকে নির্দিষ্ট স্থানে প্রেরণ করতে পারবে যা হয়তো সাধারণ হেলিকপ্টারের জন্য কঠিন হতো।


যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী চিন্তা করছে এ ব্যবস্থা দু’ভাবে কাজ করতে পারে: Predator অথবা Reaper droneহিসেবে। এতে হয়তো দূর থেকে রিমোটের মাধ্যমে যানটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে, অথবা যানটির মধ্যেই কেউ বসবে কিন্তু নিয়ন্ত্রণের জন্য খুব একটা বেগ পেতে হবে না। অনেকটা ‘একটা বাটন চাপলেই হলো, বাকিটা প্লেন নিজেই দেখবে’। যানটিতে flight crew থাকছে না। উদ্দেশ্য মিশনে লোক কমানো।

আবেদনটিতে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সহযোগীতা উল্লেখ করা হয়েছে। গত কয়েক বছর যাবত স্বয়ংক্রিয় বিমান তৈরির চেষ্টা কম করা হয়নি। Airbus, Bell, Boeing, Ehang, Kitty Hawk, Lilium, Uber, Vertical Aerospace, Volocopter ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের যানের ধারণা এবং ডেমো প্রকাশ করেই চলেছে। কিছু কিছু কাজ মিলিটারির কাজে লাগতে পারে।

তবে বিমান বাহিনী বলছে, সাধারণ মানুষের উপযোগী যানবাহন তো মিলিটারি কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে না। আবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন PAV ডিজাইন কেবল বিদ্যুৎচালিত কিংবা নির্দিষ্ট মাত্রায় গতি, ওজন কিংবা দূরত্ব বাস্তবায়ন করেই ক্ষান্ত হয়েছে। FAAযেমন সীমারেখা এঁকে দিয়েছে, সেগুলো তার মধ্যেই অবস্থান করছে। মিলিটারি কাজের জন্য আসলে সীমারেখা আরো বৃহৎ হওয়া উচিত।

আসলে অনেক কাজ বাকি। আবেদনটি ছিলো প্রথম ধাপ। যেসব প্রতিষ্ঠান এ আবেদনে সাড়া দিবে, তাদের দেখাতে হবে যে এমন যানবাহন তারা বানাতে পারবে। যখন সব কিছু সন্তোষজনক হবে, তারপরেই বাকি ধাপগুলো বাস্তবায়ন।


পোস্টটি ভালো লাগলে Like দিন, পোস্টটি সম্পর্কে কোন কিছু জানার থাকলে অবশই কমেন্ট করবেন এবং প্রতিদিন প্রযুক্তির সব letest নিউজের Update পেতে (প্রযুক্তির আলো.কম) এর সাথে থাকুন ।

আরও পড়ুনঃ পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে বাণিজ্যিক আবাসন তৈরির পরিকল্পনা করছে NASA