Audi যেন গাড়ি জগতের Apple

মোবাইল ও স্মার্টফোন জগতে Apple-এর যে স্থান, প্রতিনিয়তই যেন Audi গাড়ি জগতে সে স্থান জয় করে নিচ্ছে। কথাটি অদ্ভুত শোনাতে পারে। তবে Audi-এর গাড়ি এবং উদ্ভাবনের পন্থা Apple-এর সাথে কিভাবে যেন মিলে যাচ্ছে।

একটু মিলিয়ে দেখি?

Ferrari তার জাঁকজমক পূর্ণ ডিজাইনের দিক থেকে যেন গাড়ি জগতের Huawei-এর মতো। ভেতরের যন্ত্রপাতি অসাধারণ, তবে যেন Huawei Mate 20 Pro-এর user interface-এর মতো দুর্দান্ত driving experience।

McLaren-এর গাড়িগুলো একটু যন্ত্র খেঁকোদের জন্যই! বিষয়টা Google Pixel ফোনের মতো। আর মাঝারি মূল্যের মধ্যে Jaguar বা BMW যেন OnePlus ও OnePlus 6T মতো!

তবে Audi-এর সর্বাধিক সাদৃশ্য Cupertino-এর সাথে। Teutonic ধাঁচের গাড়িগুলো উচ্চমানের build quanlity ধারণ করে। কেমন চেনা চেনা লাগছে না? ফোন জগতেও এরকম নিয়মিত উচ্চমান সংরক্ষণ করে একটি কোম্পানি; Apple।

মানের আছে দাম

তবে হ্যাঁ, Audi-এর গাড়ি কিনতে Apple পণ্য কেনার মতোই টাকা গুনতে হবে। উচ্চমানের MacBook Air কিনতে চাইলে ২৫৯৯ মার্কিন ডলার বা ২ লাখ ১৯ হাজার টাকা পকেটে রাখতে হবে। Audi Q8 কিনতে চাইলেও সেরকম দামের সাথে ২০০০০ মার্কিন ডলার বা ১ কোটি ৬৮ লাখ যোগ করতে হবে। ব্যাপারটি উভয় brand-এর অন্যান্য পণ্যের জন্যেও একই রকম।

এমন কি Apple-এর নতুন সবচেয়ে সস্তা পণ্য iPhone XR-এর দাম অধিকাংশ উচ্চমানের Android ফোন থেকেও বেশি। বিষয়টি Audi-এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; A1 গাড়িটির দাম অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী গাড়ি থেকে অনেক বেশী।

Apple-এর পণ্য কাজ ও দক্ষতার দিক থেকে বহু কিছুকেই ছাড়িয়ে গিয়েছে। তবে সন্দেহ নেই, Cupertino এমন পণ্যই হাজির করে যা সহজে ব্যবহার্য। Android-এর ফোনগুলোর অনেক উন্নতি হয়েছে ঠিকই, তবে iOS এখনো দৌড়ে এগিয়ে আছে। Windows 10 থেকেmacOS –এর accessibility বেশী।

এবং গাড়ি জগতে Audiসেই accessibility-এর আনয়নই করেছে। শক্তপোক্ত Q8 flagship SUV থেকে দৃঢ়তাসম্পন্ন A1, সবগুলোই চালিয়ে আনন্দ আছে। দারুণ প্রযুক্তি ও driver aid-এর কারণেই এমনটা সম্ভব হচ্ছে।


তবে অসাধারণ হচ্ছে নতুন Audi R8। পূর্বের R8থেকে নতুন R8-এর ডিজাইন ভিন্ন। গাড়িটির প্রযুক্তিতে রয়েছে  5.2-liter V10 engine, যা 613 horsepower পর্যন্ত শক্তি ওঠাতে সক্ষম. 0-62mph sprint করতে পারে 3.1 seconds-এ । সর্বোচ্চ গতি 205mph। দারুণ না?

স্পেনের মালাগায় Ascari racetrack-এ একবার এ গাড়িটি চালানোর সুযোগ হয়েছিলো লেখকের। লেখক 300bph-এর বেশী চালাননি, দ্বিগুণ গতি তো পরের কথা! কোনো track-এও তিনি গাড়ি চালাননি। এবং সবচেয়ে কঠিন বিষয়, বৃষ্টি হচ্ছিলো সেদিন। যারা supercar চালায়নি, তাদের জন্য R8 চালানো চ্যালেঞ্জিং ভাবা যেতেই পারে। কিন্তু কি আশ্চর্য, গাড়িটি একদম সহজে চালানো গিয়েছে! ভেতরের প্রকৌশল অসাধারণ ছিলো বলে বাঁকগুলোও নেয়া গিয়েছে বেশ ভালোভাবে। নচেত যেমনটা অসতর্কতা এসেছিলো হঠাৎ, ১ লক্ষ মার্কিন ডলারের (বা ১ লক্ষ পাউন্ড বা ১ লক্ষ ২০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার) যন্ত্রপাতি ধ্বংস হয়ে যেতো। হ্যাঁ, track-এর ঘাসগুলোর সাথে গাড়ির কিঞ্চিত স্পর্শ লেগেছিলো বৈকি, তবে সেটা লেখকের মতে তার নিজের দোষে, গাড়ির দোষে নয়।

বিষয়টি অনেকটা Apple-এর পণ্যের মতো। চোখে পড়ে না, উপস্থিতি টের পাওয়া যায় না, অথচ এরকম অসংখ্য ছোটো ছোটো প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয় পণ্যগুলোতে, যার কারণে সেগুলোর ব্যবহার সহজ হয়। যেমন ধরুন iPhone Xs-এরA12 Bionic chip-এর AI প্রযুক্তি। নতুন iPad Proযেভাবে ধরা হোক না কেন, Face ID ঠিকই কাজ করে।

দুর্দান্ত চিন্তাভাবনা

সর্বশেষ যে সাদৃশ্যের কথা তোলা চলে Apple এবং Audi-এর মাঝে, তা হচ্ছে উদ্ভাবন। হ্যাঁ, হয়তো যতোটা উচ্চধারণা করা হয় Apple-এর উদ্ভাবনী নিয়ে, ততটা উদ্ভাবন Apple-এর নেই। তবে পণ্যের মানদন্ড রক্ষায় Apple-এর কাজ দেখার মতোই।

সর্বশেষ Apple Watch-এর electrocardiogram sensor-এর কথা তোলা যেতে পারে। প্রযুক্তি হয়তো একই রকমই আছে, তবে সংযোজিত ফিচারগুলোও কিন্তু কম উপকারী নয়। অথবা ধরুন Siri-এর কথা। Virtual assistance-এর দিক থেকে প্রযুক্তিটি Google Assistant থেকে কিঞ্চিত দুর্বল ছিলো বটে, তবে command দেয়া-নেয়ার দিক থেকে যথেষ্ট ভালো সেবা দিয়েছে।

Audi-এর Apple-সদৃশ কিছু উদ্ভাবনী পদ্ধতি আছে। যেমন Virtual Cockpit digital dashboard ও  touchscreen-oriented infotainment setup। অন্যান্য গাড়িগুলোকে যেন ছাড়িয়ে গিয়েছে এ প্রযুক্তি। খুব বেশী ‘বিপ্লব’ আনতে না পারলেও Audi-তে sitting ও driving experience কিন্তু দারুণ করেছে প্রযুক্তিটি।  যে পদ্ধতিতে Audi তার self-driving গাড়ি ও বিদ্যুৎচালিত যানবাহন তৈরিতে এগোচ্ছে, তা অনেকটা Apple-এর মতোই।


আগামী বছর অভিষেক পাচ্ছে Audi E-Tron all-electric SUV। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও প্রকৌশলের সমারোহ আনা হচ্ছে পণ্যটিতে; ঠিক Apple-এর মতোই ইতোমধ্যেই নজর কেড়ে নিচ্ছে এদিক থেকে। ২০১৯ সাল যতোই এগোবে, Audi যেন ততোই হয়ে উঠবে গাড়ি জগতের Apple!

পোস্টটি ভালো লাগলে Like দিন, পোষ্টটি সম্পর্কে কোন কিছু জানার থাকলে অবশই কমেন্ট করবেন এবং প্রতিদিন প্রযুক্তির সব letest নিউজের Update পেতে (প্রযুক্তির আলো.কম) এর সাথে থাকুন ।