Corsair বাজারে নিয়ে আলো K83 Wireless Entertainment Keyboard

Corsair একটি ছোটো tenkeyless কিবোর্ড তৈরি করেছে। যাতে শুধু কিবোর্ডই নয়, থাকছে built-in trackpad এবং বিভিন্ন ধরণের media control button। আরো থাকছে একটি analog stick। দেখতে অনেকটা game controller-এর মতো।

Wireless প্রযুক্তি থাকার কারণে থাকছে Bluetooth connection সুবিধা। এর মাধ্যমে কিবোর্ডটি মোবাইল ডিভাইস এবং অন্যান্য entertainment console-এর সাথে যোগ করা যাবে। অবশ্য তারসংযোগের ব্যবস্থাও থাকছে; lag-free এবং 2.4GHz connection। সকল কিছু মিলে দাম পড়ছে মাত্র ৯৯ মার্কিন ডলার (প্রায় ৭৫ পাউন্ড, ১৪০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার)।

Corsair বাজারে নিয়ে আলো K83 Wireless Entertainment Keyboard

হাতে গোণা কিছু কিবোর্ড এটির সাথে তাল মেলাতে পারবে। যেমন Logitech K780(৭৯ মার্কিন ডলার, ৭৯ পাউন্ড, ৯৯ অস্ট্রেলিয়ান ডলার), আরো বেশি দামে Logitech Craft (১৯৯ মার্কিন ডলার, ১৭৯ পাউন্ড, ২৯৯ অস্ট্রেলিয়ান ডলার) এবং Microsoft Modern Keyboard (১২৯.৯৯ মার্কিন ডলার, ১২৪ পাউন্ড, ২০১৯ অস্ট্রেলিয়ান ডলার)। Logitech K830 (৯৯ মার্কিন ডলার, ৯৯ পাউন্ড, ১৪৯ অস্ট্রেলিয়ান ডলার) Corsair-এর কিবোর্ডের সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্য রাখে। তবে পার্থক্যটা কেবল প্লাস্টিক বনাম অ্যালুমিনিয়ামে।

K83 Wireless-এ আছে কিবোর্ড, trackpad, analog stick এবং প্রিমিয়াম ডিজাইন; অনেকটা ‘একের-ভেতর-সব’ যার সাথে অন্যদের তুলনাই হয় না। কেবল gaming input device-এর ভাবনা বাদ দিলে এমন দামে ডিভাইসটি এক কথায় অসাধারণ।

ডিজাইনঃ

কিবোর্ড এবং navigationসুবিধায় K38 যথেষ্ট ভালো। যদিও number pad নেই কিবোর্ডটিতে, সকল রকম media control-এর ব্যবস্থা থাকছে। থাকছে একটি multi-touch trackpad এবং analog stick। কিবোর্ডের key-গুলোর খুব বেশি ভার নেই। তবে low-profileকিবোর্ডগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে হালকা নয়। Key-গুলোতেও আছে যথেষ্ট resistance,ফলে ভালোই কাজ করা যায়। খুব বেশি নড়াচড়াও করে না। যদিও এ কিবোর্ড media center নিয়ন্ত্রণের জন্যই, সহজেই বোঝা যাচ্ছে ডিভাইসটি হাতে নিয়ে বসার মতো দারুণ keyboard+trackpad।

K83 অস্বাভাবিক হালকা। পেছনের প্লাস্টিকের জন্যে জিনিসটি সস্তাও লাগতে পারে। কিন্তু একটু উলটে ধরলেই লাগবে যেকোনো দামী ডিভাইসের মতোই। সামনের প্লেটটি brushed aluminium দ্বারা নির্মিত। দেখতেও লাগে সুন্দর, টেকসই বটে।মনে আছে কিভাবে ব্যাটম্যানের মুভিতে খলনায়ক বেইন ব্যাটমেনকে চেপে ধরে হাঁটু দিয়ে? ওরকম করে এক হাঁটুর নিচে কিবোর্ডটি রেখে চাপ দেয়া হয়েছিলো। নাহ, কোনো সমস্যাই হয়নি ডিভাইসটির।

Corsair বাজারে নিয়ে আলো K83 Wireless Entertainment Keyboard

যদি ভেঙে যেতো? সাধারণ কোনো ঘটনা হতো না এটি! কিবোর্ডটির আকার অবশ্যই বিবেচনার মতো। কেননা, ডিভাইসের ডান দিকে আছে একটি video game controller। উপরের ডানদিকে আছে shoulder-সহ analog stick, তার নিচে আরেকটি বাটন। সবে মিলে জিনিসটি মাউজ/controller-এর মতো ব্যবহার করা যাবে।

Trackpad-টি 40-finger support-এর জন্য খানিক ছোটো, বিশেষ করে তার বৃত্তাকার ডিজাইনের জন্য। তবে একারণে তার নিচে বাম-ডান বাটন ব্যবহার সহজ হয়ে গিয়েছে। গঠনবিন্যাসটিও মসৃণ। সব মিলিয়ে ডিভাইসটির গঠন অসাধারণ। কিবোর্ডের ব্যাকলাইটের কারণে সকল secondary function আলোকিত হয়ে উঠে, ফলে দেখতে মনোমুগ্ধকর লাগে। কিছু বিষয় অবশ্য বিরক্তিকর লাগে, যেমন কিছু ডিলেট করতে চাইলে Fn+Backspaceক্লিক করতে হয়। Arrow key-গুলো দেখতে খানিক বেগ পেতে হলো। তবে এগুলো আসলে তেমন ব্যাপার না।

শব্দ বন্ধ করতে volume wheel চাপ দিলেই হলো। একটু কেরামতির ব্যাপারই বৈকি, scroll করে সাউন্ড কমিয়ে ফেললেই তো হতো! হ্যাঁ, সে ব্যবস্থাও আছে। তবে শব্দ বন্ধ অবস্থায় wheel চালাতে শুরু করলে আবার সাউন্ড চালু হয়ে যাবে। Windows-এ একটান দিয়ে আবার শব্দ বন্ধও করে ফেলা যায়। একটি পাওয়ার বাটনের আশাও করছেন প্রযুক্তিপ্রেমীরা। এতে ভুল করে চাপ পড়বে না কিবোর্ডে, ফলে ব্যাটারি চার্জ চলে যাবে না।

Performanceঃ

Corsair K83 Wireless বিভিন্ন উপায়ে অন্য ডিভাইসের সাথে সংযুক্ত করা যায়। এতে আছে একটি 2.4GHz wireless dongle।একসাথে দুটি Bluetooth ডিভাইস সংযোগ করা যাবে। থাকছে USB connection। Compatibility-এর জন্য Bluetooth ভালোই সুবিধা দিবে। Wired এবং 2.64GHz connection-এ থাকবে 1000Hz polling rate এবং 1ms response time।

Bluetooth এবং 2.4GHz connection-এর মাঝে পার্থক্য বোঝা সহজ। তবে Bluetooth-এর 7.5ms response time খারাপ নয়। যদিও কিবোর্ডের গতিটাই কর্মদক্ষতা বোঝার জন্য যথেষ্ট। বিশেষ কোনো lag নেই। তাই key চাপ দেয়ার সাথে সাথেই কাজ শেষ। কিবোর্ডটিতে আরো আছে anti-ghostingএবং 10-key rollover সুবিধা। যারা গোপনীয়তা সংরক্ষণ করতে চান, তাদের জন্য 128-bit AES encryption-এর ব্যবস্থা আছে। তবে responsiveness বাড়ানোর জন্য তা বন্ধ করারও সুযোগ আছে।

Corsair বাজারে নিয়ে আলো K83 Wireless Entertainment Keyboard

Feature support নিয়ে কিছু কথাবার্তা উঠতে পারে। যেমন, সংযুক্ত PC-এর মতো সব ফিচার থাকবে না Smart TV-তে। তবে PCসংযোগে সকল কাজই ঠিকঠাক করা যায়, এমনকি Stream Link-এর সাথে সংযোগ করেও ভালো ফল পাওয়া গিয়েছে। তবে কোন ডিভাইসে কেমন কাজ করে কিবোর্ডটি, তা হলফ করে বলা মুশকিল। হতে পারে একেকটার জন্য একেকরকম ফিচার দেখাবে অথবা বাদ দিবে।

ভালো মানের তৈরি ও সাড়া দেয়ার ক্ষমতার জন্য টাইপিংয়ে বেশ কাজ দেয় কিবোর্ডটি। সাথে trackpad থাকার কারণে সুবিধা বেড়েছে কয়েক গুণে। যদিও arrow key ছোটো হওয়ার কারণে অনেকের বিরক্ত লাগতে পারে, analog stick-টি সেগুলো থেকে প্রায় দ্বিগুণ। এতে টেক্সট ডকুমেন্ট বা অন্যান্য মেনু পেইজ ঘুরেফিরে দেখা বেশ সহজ হয়ে যায়।

Analog stick-এ মাত্র একটি কাজই ভালোমতো করা যায় না, আর তা হলো গেমিং। কোনো first-person-game-এ অল্পতেই খুব নড়ে যায়, তবে পাশ নড়ে খুব ধীরে। সুতরাং গেমিং কিবোর্ডের মতো মালসামানা থাকলেও গেমিং কিবোর্ড নয় এটি। অবশ্য একারণে কিবোর্ডটি একদম ফেলনা নয়। রিচার্জেবল ব্যাটারির মাধ্যমে ৪০ ঘন্টা আয়ুষ্কাল রবে যদি ব্যাকলাইট অফ থাকে। এক সপ্তাহ ভালোমতো কাজ করা যাবে। ব্যাকলাইট অন থাকলেও কাজবিহীন অবস্থায় কিবোর্ডটি শক্তি সঞ্চয় করবে।

Corsair-এর iCUE customization softwareচালাতে একটু বেগ পেতে হলেও কিছু বিষয়ে উন্নতি সাধান করা যাবে। Analog stick-কে dead zone-এ নিয়ে sensitivity কমিয়ে আনলে আরেকটু ভালো করে ব্যবহার করা যায় কিবোর্ডটি। Tilde key-কে Delete key বানাবার macro set up করাও সম্ভব এটিতে। অবশ্য macro-টি Bluetooth-এ তেমন কাজ করেনি। Key-এর কাজ বদলানো, sensitivity ঠিকঠাক করা, auto shut-off timer পরিবর্তন করা, এসব ছাড়া সফটওয়্যার আর তেমন কোনো পরিবর্তন আনতে পারে না কিবোর্ডে।

Corsair বাজারে নিয়ে আলো K83 Wireless Entertainment Keyboard 3

প্রাথমিক রায়ঃ

Corsair K83 Wireless এমন একটী entertainment keyboard, যা অল্প পরিসরে গেমিংয়ে ব্যবহৃত হতে পারে। Media center নিয়ন্ত্রণের সর্বশক্তি থাকলেও গেমিংয়ের জন্য খুব একটা লাভজনক হবে না এটি। তা সত্ত্বেও নবেশ কার্যক্ষম একটি কিবোর্ড বলা যেতে পারে। টাইপিং ভালো ও একাধিক connectivity সুবিধা নিয়ে যথেষ্ট কার্যোপযোগী কিবোর্ড এই K38।

তো, smart TV-তে মেনু ঠিকঠাক করতে চাইলে K38 ভালোই নির্বাচন হবে। তবে, সামান্য একাজ করার জন্য ৯৯ মার্কিন ডলার খরচ করা অনেক। যদি media center-এ যোগ করার দরকার থাকে, কেবল অফিসে আনলে বা ব্যাগে ভরলেই হলো; একাধিক কাজ একসাথে করা সম্ভব হবে, দামটাও উসুল হবে।

পোস্টটি ভালো লাগলে Like দিন, কিবোর্ডটি সম্পর্কে কোন কিছু জানার থাকলে অবশই কমেন্ট করবেন এবং প্রতিদিন প্রযুক্তির সব letest নিউজের Update পেতে (প্রযুক্তির আলো.কম) এর সাথে থাকুন ।  

আরও পড়ুনঃ Oral-B বাজারে নিয়ে এলো AI-Powered স্মার্ট টুথব্রাশ