ইতিহাস গড়ার পর, বন্ধ হয়ে গেলো NASA-এর ক্ষুদ্র Deep Space Satellite

গ্রহ থেকে গ্রহে দাঁপিয়ে চলা প্রথম দুটি ক্ষুদ্র satellite মহাশূণ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সম্ভবত সেগুলো থেকে আর কিছুই শোনা যাবে না। তবে NASA-এর জন্য এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা তেমন কোনো ব্যর্থতা নয়। এই satellite জোড়া প্রমাণ করে দিয়েছিলো, সৌরজগতের গভীরের বিভিন্ন অঞ্চল অনুসন্ধানে ক্ষুদ্র satellite-গুলোই বেশ কাজে আসবে।বন্ধ হয়ে যাওয়া satellite-গুলো MarCO যানের অন্তর্ভুক্ত, যাদের ডাকনাম রাখা হয়েছিলো EVE এবং WALL-E। Pixar-এর বিখ্যাত অ্যানিমেটেড মুভি Wall-E থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নামকরণ করা হয়েছে। NASA-এর InSight Lander-এর সাথে গত বছর satellite দুটি মঙ্গলে যাত্রা করেছিলো। উভয় satellite-ই রূপান্তরিত CubeSat; মহাশূণ্য গবেষণার পরিপূর্ণ একটি satellite, তবে আকৃতি cereal বাক্সের মতো। InSight-এর সাথে যাত্রার আগে CubeSat satellite-গুলো মাত্র একবার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেছিলো। তবে মহাশূণ্যের গভীরে যাত্রার জন্য এগুলো কতোটা কার্যকরী, NASA একটু খতিয়ে দেখতে চেয়েছিলো।

উল্লিখিত satellite-গুলো সকলের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে InSight-এর সাথে ৫ই মে ২০১৮ সালে রওনা করে মঙ্গলে পোঁছে যায়। ২৬শে নভেম্বরে যখন InSight মঙ্গলে নামা শুরু করে, উপর থেকেই তার অবতরণক্রম নজরে আনতে থাকে satellite-গুলো এবং সাথে সাথেই পৃথিবীতে তথ্য পাঠাতে থাকে। এতে NASA পুরো অবতরণ প্রক্রিয়ার প্রত্যেক পদক্ষেপের বার্তা মিনিটের মধ্যে পেতে থাকে। NASA-এর Jet Propulsion Laboratory-এর MarCO spacecraft project manager জোয়েল ক্রাওয়েস্কির ভাষ্যমতে, ঘটনা ঘটবার প্রায় সাথেই সাথেই বার্তা পেতে থাকেন তারা। সাধারণতঃ এরকম mission-এ বার্তা আসতে আরো দেরী হয়।

MarCO satellite ছাড়া NASA-এর পক্ষে এমনটা সম্ভব ছিলো না। অন্যান্য বড় মহাশূণ্যযানগুলোও InSight-এর অবতরণ নিয়ে তথ্য জোগাড় করতে মঙ্গলের চারিদিকে প্রদক্ষিণরত ছিলো। কিন্তু নিজেদের ও অন্যান্য গ্রহের অবস্থানের কারণে পৃথিবীতে বার্তা পাঠাতে বেশ সময় লাগে তাদের। যেমন NASA-এর Mars Reconnaissance Orbiter ২০০৬ সাল থেকে মঙ্গল প্রদক্ষিণ করে আসছে। এটি InSIght-কে অবতরণরত অবস্থায় দেখতে পায় ঠিকই, কিন্তু এর পরপরই শীঘ্রই দিগন্তে ডুবে যায়। অবতরণের প্রায় তিন ঘন্টা আগে পৃথিবীতে এটি কোনো বার্তা পাঠাতেই পারেনি।MarCo satellite যদি না থাকতো, InSight অবতরণে যেকোনো সমস্যা ঘটলে তা নির্ণয় ও সমাধান করতে বেশ সময় লাগতো NASA-র। ক্রাওয়েস্কি বলছিলেন, অবতরণকালেই মহাশূণ্যযানের তথ্য পাওয়া জরুরী, যাতে যেকোনো সমস্যায় কোনো যান হারাতে না হয়। Airline black box-এর সমপরিমাণ কিছু দরকার পড়ে সমস্ত কিছু বুঝতে। ভাগ্যক্রমে InSight ও MarCO satellite-এর অবতরণে কোনো সমস্যা হয়নি। এমনকি satellite-গুলো InSight-এর ক্যামেরায় তোলা মঙ্গলের প্রথম ছবিটাও পাঠিয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে ধুলোমলিন ক্যামেরা লেন্সে তোলা লোহিতবর্ণের একটি সমতল ভূমি।

অবশ্য InSight অবতরণের পর MarCO satellite-কে আর কোনো কাজে লাগানোর উদ্দেশ্য ছিলো না। NASA JPL-=এর MarCO-এর প্রধান প্রকৌশলী অ্যান্ডি ক্লেশ বলছিলেন, এই mission প্রথম থেকে পরীক্ষামূলক ছিলো, যেখানে MarCO-এর উদ্দেশ্য ছিলো কেবল মঙ্গল পৌঁছানো পর্যন্ত ঠিক থাকা। তিনি আরো বলেন, mission-এর দুই মাসের মধ্যে সকল প্রযুক্তির প্রমাণ তারা দিয়েছেন। Insight mission শেষে  satellite- গুলো সূর্য প্রদক্ষিণ শুরু করে এবং পরবর্তী এক মাস বার্তা পাঠাতে থাকে। কিন্তু গত ডিসেম্বর এবং জানুয়ারীর প্রথম দিকে NASA-এর সাথে satellite-গুলো যোগাযোগ হারায়। NASA এখনো যোগাযোগ ফিরে পায়নি, তাই ধারণা করা হচ্ছে satellite-গুলো চিরতরে হারিয়ে গিয়েছে।



MarCO team নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না কেন satellite-গুলো বন্ধ হয়ে গেলো। হতে পারে গভীর মহাশূণ্যের কোনো রশ্মি সেগুলোর ইলেক্ট্রনিক অংশে আঘাত হেনে ক্ষতিগ্রস্ত করে দিয়েছে। তবে WALL-E নামক satellite-টির সচ্ছিদ্র thruster ছিলো। উভয় satellite-এর thruster ছিলো, যা ঠান্ডা বায়ু প্রবাহিত করে মহাশূণ্যে ভাসার সুযোগ তৈরি করে দেয়। এই hardware-এর মাধ্যমে satellite-গুলো তাদের radio antennae পৃথিবীর দিকে তাক করে দিতো। পৃথিবী থেকে যতো দূরে তারা যেতো, ততোই বেশি তাক করার দরকার পড়তো। Thruster-এ ছিদ্র থাকার মানে WALL-E-এর জ্বালানী সম্ভবত শেষ, সুতরাং antennae আর তাক করতে পারছে না।আরেকটি মতামত হলো, satellite দুটি সূর্য থেকে বেশ দূরে চলে যাচ্ছে, তাই শক্তি পাচ্ছে না। উভয় satellite-এ এমন sensor আছে সূর্যের অবস্থান নির্ণয় করতে সক্ষম যাতে নিজেদের solar panel-এর দিক ঠিক করতে পারে। সূর্য থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে sensor-গুলো সূর্যের অবস্থান নির্ণয় করতে পারছে না। তাই satellite-গুলো সঠিকভাবে antennae তাক করতে পারছে না, solar panel-এও পর্যাপ্ত আলো পাছে না।

দ্বিতীয় মতামতটি সত্য হলে satellite-গুলো ফিরে পাওয়ার কিছুটা আশা করা যেতে পারে। এখনকার প্রদক্ষিণপথে তারা সূর্য থেকে দূরে চলে যাচ্ছে ঠিকই, তবে কয়েক মাসের মধ্যে আবার আগের অবস্থানে ফেরত আসবে। অগাস্ট নাগাদ তারা উড়ার সময়ে যেমন কাছে ছিলো সূর্যের, ঠিক তেমন কাছেই চলে আসবে। হতে পারে sensor-গুলো আবারো সূর্যের অবস্থান নির্ণয় করতে পারবে এবং এর মাধ্যমে satellite-গুলো শক্তি ফিরে পাবে। ক্রাওয়েস্কির মতে, আবারো হয়তো যোগাযোগ শুরু হবে। Satellite-গুলোর জন্য আরো কয়েক দফা অনুসন্ধানের কথা রয়েছে।MarCO satellite-দ্বয়কে পাওয়া না গেলেও mission team-এর তেমন ক্ষতি নেই। কেননা সাম্প্রতিক অর্জনের জন্য তারা সন্তুষ্ট। MarCO satellite-এর বাজেট ছিলো কেবল ১৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে InSight-এর বাজেট ছিলো ৮৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। Satellite-গুলো তাদের তৈরির উদ্দেশ্য পূরণ করেছে।

Mission team দেখিয়েছে CubeSat প্রযুক্তি গভীর মহাশূণ্যের পরিবেশে ভালো কাজ করতে পারে। MarCO satellite-এর প্রত্যেকটির সাথে হাতের মুঠের সমান বিশেষ রেডিও ছিলো যা লক্ষ লক্ষ মাইল দূর থেকে যোগাযোগ করতে সক্ষম। Satellite-গুলোর ছিলো মহাশূণ্যযানের দিক ঠিক করার ব্যবস্থা, solar panel এবং thruster। এগুলো CubeSat-এর জন্য বিশেষভাবে নির্মাণ করা। এই প্রথম কোনো গভীর মহাশূণ্যেযানে এসব একত্রিত করা হয়েছে। আগাম CubeSat mission-গুলো ইতোমধ্যেও এই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে। Lunar Flashlight নামক mission-এ চাঁদের খাদগুলোতে বরফ অনুসন্ধানে একটি CubeSat-কে পাঠানো হবে চাঁদের আশেপাশের খালি জায়গাতে। এজন্য MarCO-এর কিছু প্রযুক্তির দরকার পড়বে এটির।ভবিষ্যতে গভীর মহাকাশের বড় বড় mission-এ CubeSat পাঠানো হতে পারে পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ রক্ষার জন্য। শুক্র গ্রহের স্থানে, যেখানে মঙ্গলের মতো এত যোগাযোগ ব্যবস্থার আয়োজন করা যায়নি, সেখানে এই satellite ভালো কাজ দিতে পারে। হতে পারে প্রকৌশলীগণ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এসব মহাশূণ্যযান পাঠাবেন মহাশূণ্যের কঠিন কঠিন স্থানে, যেমন কোনো ধূমকেতুর লেজ বরাবর বা শনি গ্রহের চাঁদ এনসেলাডাস থেকে উদগত জলীয় বাষ্পের মাঝে।

পোস্টটি ভালো লাগলে Like দিন, পোস্টটি সম্পর্কে কোন কিছু জানার থাকলে অবশই কমেন্ট করবেন এবং প্রতিদিন প্রযুক্তির সব letest নিউজের Update পেতে (প্রযুক্তির আলো.কম) এর সাথে থাকুন ।